ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসলামী ব্যাংকের সামনে ফের মুখোমুখি দুই পক্ষ

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৮:১৫:৩৬
ইসলামী ব্যাংকের সামনে ফের মুখোমুখি দুই পক্ষ

চাকরিতে ফেরার দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মধ্যেই একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের পৃথক অবস্থান ও কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পক্ষের দাবি চাকরিতে পুনর্বহাল, অন্য পক্ষ চাইছে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন এবং এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, শাপলা চত্বর ও বাংলাদেশ ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং ব্যাংকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।

চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

রোববার সকাল থেকেই ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পরে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে তারা মানববন্ধন করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ব্যাংকে নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে কর্মরত ছিলেন; সরকার পরিবর্তনের পর তাদের চাকরি হারাতে হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, তাদের দাবি একটিই—চাকরি ফিরে পাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আরেক কর্মকর্তা বলেন, চাকরি হারানোর পর অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেকেই কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

চাকরিচ্যুতদের দাবির সঙ্গে একমত নয় গ্রাহক ফোরাম

চাকরিচ্যুতদের কর্মসূচির পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামও ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেয়। সংগঠনটির নেতারা জানান, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিকের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে, তখন একটি পক্ষ ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

ফোরামের সদস্যসচিব মুতাসিম বিল্লাহর দাবি, এস আলম গ্রুপের সময় যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের অনেকে সেই পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবির সঙ্গে ফোরাম একমত নয় বলে জানান তিনি।

পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ব্যাখ্যা চাকরিচ্যুতদের

গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের ভাষ্য, নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে অনেকেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তাদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টিকে চাকরিতে পুনর্বহাল না করার একমাত্র কারণ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

১৪ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষের পরও উত্তেজনা

দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানের আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষই তাদের ২০ থেকে ৩০ জনের বেশি সদস্য আহত হওয়ার দাবি করেছিল।

পুলিশ জানিয়েছিল, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এরপর কয়েক দিন ধরে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার, শাপলা চত্বর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে দুই পক্ষ। এর ফলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

দুই পক্ষের দাবির পরিধি আলাদা

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দাবি চাকরিতে পুনর্বহাল। এর সঙ্গে প্রাপ্য পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে তাদের।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণের দায় নির্ধারণ এবং এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের সম্পদ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির মধ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল এবং ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামো ঘিরে বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ