Alamin Islam
Senior Reporter
ডায়াবেটিস রোগীরা ভুলেও কি জুস খাচ্ছেন? বিশেষজ্ঞের বিশেষ সতর্কবার্তা
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম নিয়ে রোগীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের শেষ নেই। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল চিবিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
কেন চিবিয়ে ফল খাওয়া জরুরি?
পুষ্টিবিদদের মতে, আস্ত ফলের মূল শক্তি হলো এর ‘ডায়েটারি ফাইবার’ বা আঁশ। যখন কোনো ব্যক্তি ফল চিবিয়ে খান, তখন এই ফাইবার শর্করার শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে রক্তে হঠাৎ করে সুগারের মাত্রা লাফিয়ে বাড়ার (Sugar Spike) সুযোগ পায় না। এছাড়া পুরো ফলে থাকা পানি ও উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
জুস বা ফলের রস কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
অনেকেই মনে করেন ফলের রস শরীরের জন্য বেশি উপকারী, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। ফল থেকে যখন রস বের করা হয়, তখন এর অধিকাংশ ফাইবার বাদ পড়ে যায়। অবশিষ্টাংশ হিসেবে কেবল ঘনীভূত প্রাকৃতিক চিনি রয়ে যায়। আঁশহীন এই তরল খুব দ্রুত হজম হয়ে রক্তে মিশে যায়, যা শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ ডায়েটিশিয়ানদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নিয়মিত ফলের রস পানের অভ্যাস কেবল ডায়াবেটিস নয়, বরং পিসিওডি (PCOD) এবং হৃদরোগীদের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। এছাড়া জুস পানে পেট ভরা থাকার অনুভূতি আসে না, যা প্রকারান্তরে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি
তবে ফলের রস সব সময় বর্জনীয় নয়। চিকিৎসকদের মতে, যদি কোনো রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), তবে দ্রুত গ্লুকোজের যোগান দিতে ফলের রস ওষুধের মতো কাজ করতে পারে। এটি কেবল আপদকালীন বা চিকিৎসাজনিত বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত।
ডায়াবেটিক ডায়েটে কোন ফলগুলো রাখবেন?
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ও উচ্চ তন্তুযুক্ত ফল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এই তালিকায় রয়েছে:
খোসাসহ আপেল ও পেয়ারা।
ডালিম, চেরি ও বেরি জাতীয় ফল।
ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ কমলা।
পরিমিত পরিমাণে পেঁপে ও তরমুজ।
বিশেষজ্ঞ অভিমত
সুস্থ জীবনযাত্রার জন্য জুস বা প্রক্রিয়াজাত পানীয়ের বদলে ফলকে তার প্রাকৃতিক রূপেই গ্রহণ করা শ্রেয়। এটি শরীরের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তিবোধ বজায় রাখে। তবে শরীরের অবস্থাভেদে খাদ্যাভ্যাসে যেকোনো বড় পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ‘জেড’ থেকে 'বি' ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ! কেন সরব হলো WCA?
- শবে বরাতের নামাজের নিয়ম, দোয়া ও ২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখ
- আইসিসির বৈঠকে চিৎকার বিসিবি সভাপতির বুলবুলের
- আজ বার্সেলোনা বনাম ওভিয়েদো ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ
- আজ ৮ কোম্পানির বোর্ড সভা: আসছে ইপিএস
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের সামনে তিন পথ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)
- আর্সেনাল বনাম ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: প্রিভিউ, ইনজুরি আপডেট ও সম্ভাব্য একাদশ
- পিসিবিকে আইসিসির হুঁশিয়ারি: নিষিদ্ধ হতে পারে পাকিস্তান
- আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে কখন? জানুন ম্যাচের সময়সূচি
- সাবধান! আপনার এই ৮টি ভুলেই কি দ্রুত টাক পড়ে যাচ্ছে? আজই জানুন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটির ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন জারি
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (২৬ জানুয়ারি)