MD Zamirul Islam
Senior Reporter
অল্প খেলেই পেট ফাঁপা? এই ৬টি অভ্যাস বদলালেই মুক্তি
খাবার খুব বেশি খাননি, অথচ পেটটা যেন সবসময় টানটান হয়ে আছে—এমন অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই। বর্তমান সময়ে হজমের সমস্যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘পেট ফাঁপা’ বা ব্লোটিং। চিকিৎসকদের মতে, মাঝেমধ্যে এমন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, কিন্তু প্রতিদিন যদি আপনার পেটে অস্বস্তি লেগে থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার প্রাত্যহিক কোনো কাজ শরীরের পাচনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক হচ্ছে।
অনেকের ধারণা কেবল রিচ ফুড বা ভাজাপোড়া খেলেই এমনটা হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক অবস্থা এবং খাবারের ধরনের চেয়ে খাওয়ার কৌশলের ওপর পেট ফাঁপা অনেক বেশি নির্ভর করে। জেনে নিন আপনার কোন কোন অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি:
১. তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার প্রবণতা
সময়ের অভাবে অনেকেই ১০ মিনিটের মধ্যে খাবার শেষ করে ফেলেন। এই দ্রুত গতির কারণে খাবারের সাথে প্রচুর পরিমাণ বাতাস পেটে ঢুকে যায়। এছাড়া খাবার ঠিকমতো না চিবানোর ফলে পাকস্থলী তা সহজে হজম করতে পারে না, যা পরবর্তীতে গ্যাস ও অস্বস্তির জন্ম দেয়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিটি গ্রাস সময় নিয়ে চিবানোর অভ্যাস করা উচিত।
২. হুট করে অতিরিক্ত আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ
শাকসবজি বা ডাল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও বাঁধাকপি, ব্রকলি কিংবা মসুর ডালের মতো খাবারে প্রচুর ফাইবার ও বিশেষ ধরনের কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে পেটে বায়ু জমতে পারে। তাই ডায়েটে ফাইবার যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ানো উচিত, যাতে অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলো মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়।
৩. দুগ্ধজাত পণ্যে শরীরের অসহিষ্ণুতা
অনেকের শরীর ল্যাকটোজ বা দুধের শর্করা সহ্য করতে পারে না। যদি দুধ, পনির বা আইসক্রিম খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পেট ফুলে ওঠে, তবে হতে পারে আপনি ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট’। এটি নিশ্চিত হতে এক সপ্তাহের জন্য তালিকা থেকে দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিয়ে শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করুন।
৪. কোমল পানীয় ও কৃত্রিম মিষ্টিকারক
সোডাযুক্ত পানীয় বা কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস সরাসরি পরিপাকতন্ত্রে গ্যাস প্রবেশ করায়। পাশাপাশি অনেক খাবারে চিনি হিসেবে ব্যবহৃত সরবিটল বা জাইলিটল সহজে হজম হয় না, যা ব্লোটিংয়ের অন্যতম কারণ। এই সমস্যা এড়াতে সোডার পরিবর্তে সাধারণ পানি বা লিকার চা পানের অভ্যাস করুন।
৫. শারীরিক হরমোনের প্রভাব
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে হরমোনের ব্যাপক তারতম্য ঘটে। এর ফলে শরীরে পানি জমে থাকার প্রবণতা বাড়ে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। শরীরের এই প্রাকৃতিক ছন্দটি বুঝতে পারলে আপনি অনর্থক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে পারবেন।
৬. মানসিক দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা
আমাদের মন এবং পেট একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। আপনি যখন অতিরিক্ত চাপে থাকেন, তখন শরীরের স্বাভাবিক হজম ক্ষমতা কমে যায়। এতে খাবার পাকস্থলীতে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকে এবং গ্যাস সৃষ্টি করে। মন শান্ত রাখতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (ব্রিদিং এক্সারসাইজ) এবং পর্যাপ্ত ঘুম এক্ষেত্রে জাদুর মতো কাজ করে।
পেট ফাঁপার সমস্যাটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের জীবনযাত্রার প্রতিফলন। ছোটখাটো এই পরিবর্তনগুলো আনতে পারলেই ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি স্বস্তিদায়ক জীবন কাটানো সম্ভব।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প আসলে ভূমিকম্পই ছিল না!
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ-বার জানাল সূত্র
- মেসির সতীর্থ থেকে এবার মেসির কোচ, অবিশ্বাস্য যাত্রা
- রুমিন ফারহানার মধ্যেও ‘হাসিনার ছায়া’!
- ঢাবিসহ ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ
- মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড, জানুন বিস্তারিত
- ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতি, ছাড়াবে যেসব দেশ
- প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট
- ২৯ আগস্টের বাজারদর ও ভরির দাম একনজরে