ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদিতে এই ৬ ভুলে হতে পারে জেল-জরিমানা, সাবধান!

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৮ ০২:২৩:২৭
সৌদিতে এই ৬ ভুলে হতে পারে জেল-জরিমানা, সাবধান!

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রতিটি প্রবাসীর জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয় দেশটির কঠোর রেসিডেন্সি ও শ্রম আইন দ্বারা। এসব নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অনেক সময় অজান্তেই বড় ধরনের আইনি জটিলতা, ভারী জরিমানা এমনকি কারাদণ্ডের মুখেও পড়তে হতে পারে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (জাওয়াজাত) সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে তুলে ধরা হলো, যা প্রতিটি প্রবাসীর জেনে রাখা জরুরি।

১. ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অবৈধভাবে অবস্থান করা

সৌদি আরবে বৈধভাবে থাকার একমাত্র প্রমাণ হলো ইকামা (রেসিডেন্সি পারমিট)। এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং যথাসময়ে নবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হন। সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রবাসীর ক্ষেত্রে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা বা ১ মাসের জেল অথবা উভয় শাস্তির পাশাপাশি দেশ থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সপ্তাহভিত্তিক অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার আবাসন-আইন লঙ্ঘনকারীকে আটক করছে, যা প্রমাণ করে এই আইন কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

২. অনুমতি ছাড়া কাজ ছেড়ে চলে যাওয়া (হুরুব)

কফিল বা নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করলে বা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে নিয়োগকর্তা সরকারের কাছে ‘হুরুব’ (পলাতক) হিসেবে রিপোর্ট করতে পারেন। হুরুব রিপোর্ট হওয়ার সাথে সাথেই ইকামা ও ইনস্যুরেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাতারাতি অবৈধ বাসিন্দায় পরিণত হন—যার ফলাফল আগের বিষয়টির মতোই জরিমানা ও কারাদণ্ড।

৩. নিজের কফিলের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করা

অনেক প্রবাসী বাড়তি আয়ের আশায় নিজের নির্ধারিত নিয়োগকর্তার বাইরে গোপনে অন্য কোথাও কাজ করেন, যা সৌদি শ্রম আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এক্ষেত্রে দায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড এবং প্রবাসী হলে দেশ থেকে বহিষ্কারের বিধান রয়েছে, পাশাপাশি পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মী নিয়োগের অধিকার হারাতে পারে।

৪. অবৈধ অভিবাসীকে আশ্রয়, পরিবহন বা সহায়তা করা

কোনো ব্যক্তি যদি জেনে-শুনে কোনো অবৈধ বাসিন্দাকে বাসায় আশ্রয় দেন, গাড়িতে পরিবহন করেন বা কর্মসংস্থান-বাসস্থান খুঁজে পেতে সহায়তা করেন, তাহলে তিনি নিজেও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হতে পারেন। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এমন সহায়তার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ রিয়াল জরিমানা এবং ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। আর যদি কেউ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশে সহায়তা করেন, তাহলে শাস্তি আরও কঠোর—সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

৫. কফিল পরিবর্তন (কাফালা) সংক্রান্ত নিয়ম না মানা

চাকরি পরিবর্তনের সময় সঠিক প্রক্রিয়া না মেনে কাফালা ট্রান্সফার করলে বকেয়া ফি বা জরিমানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বর্তমানে কাফালা পরিবর্তনের সরকারি ফি ধাপে ধাপে বাড়ে—প্রথমবার ২,০০০ রিয়াল, দ্বিতীয়বার ৪,০০০ রিয়াল এবং তৃতীয়বার বা তার বেশি হলে ৬,০০০ রিয়াল পর্যন্ত গুনতে হতে পারে। আগের ইকামা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা অবস্থায় ট্রান্সফার হলে বকেয়া ফি কে পরিশোধ করবে তা নিয়ে প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝি হয়, যা সময়মতো সমাধান না করলে আইনি জটিলতায় রূপ নিতে পারে।

৬. অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ

সৌদি আরবে কারো অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা কিংবা সরকারি স্থাপনার ভিডিও করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা ও জেলের বিধান রয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসতর্কভাবে পোস্ট করা ছবি বা ভিডিও থেকেও অনেক সময় এই আইনের আওতায় পড়তে হয়।

সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা

সৌদি সরকার সাম্প্রতিক সময়ে রেসিডেন্সি ও শ্রম আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিটি প্রবাসীর উচিত নিজের ইকামার মেয়াদ, কফিলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং কাজের অনুমতি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র সবসময় হালনাগাদ রাখা। কোনো বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে নিয়োগকর্তা, আবশের প্ল্যাটফর্ম বা নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

সাব্বির/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ