বারবার প্রস্রাব হয় কেন? যেসব লক্ষণ অবহেলা করা বিপজ্জনক
বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া বা রাতে ঘন ঘন ঘুম ভেঙে শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকের কাছেই পরিচিত সমস্যা। অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফি খাওয়া কিংবা কিছু ওষুধের কারণে এমন হতে পারে। তবে একই উপসর্গ ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ, মূত্রথলির সমস্যা কিংবা পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়ার কারণেও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা জ্বর থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে বারবার প্রস্রাব হওয়াকে একক কোনো রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এটি বিভিন্ন শারীরিক অবস্থার একটি উপসর্গ। তাই কতবার প্রস্রাব হচ্ছে, প্রতিবার কতটা প্রস্রাব হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
বারবার প্রস্রাব হওয়ার কারণ কী?
একজন মানুষ দিনে কতবার প্রস্রাব করবেন, তার নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। পানি পান করার পরিমাণ, আবহাওয়া, বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং ওষুধের প্রভাবের ওপর প্রস্রাবের ঘনত্ব নির্ভর করে। তবে স্বাভাবিক অভ্যাসের তুলনায় হঠাৎ প্রস্রাব বেড়ে গেলে বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে এর কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
১. ডায়াবেটিসের কারণে বারবার প্রস্রাব
বারবার প্রস্রাব হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ডায়াবেটিস। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করে। এর সঙ্গে শরীর থেকে পানিও বেশি বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ ও ঘনত্ব বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিসের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের পাশাপাশি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা কিংবা চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে সব লক্ষণ একসঙ্গে নাও থাকতে পারে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করানো উচিত। শুধু বারবার প্রস্রাব হচ্ছে বলে ডায়াবেটিস হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়।
২. মূত্রনালির সংক্রমণ
মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) হলে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হতে পারে। অনেক সময় অল্প পরিমাণ প্রস্রাব হলেও বারবার প্রস্রাব করার প্রয়োজন অনুভূত হয়।
এ ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি, প্রস্রাব ঘোলা হওয়া এবং কখনো প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে। প্রস্রাবে দুর্গন্ধও হতে পারে, যদিও শুধু দুর্গন্ধ থাকলেই সংক্রমণ হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
সংক্রমণ কিডনি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাঁপুনি, পিঠের এক পাশে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় মূত্রনালির সংক্রমণের সন্দেহ হলেও দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
৩. অতিরিক্ত পানি, চা-কফি পান
বারবার প্রস্রাব হওয়ার পেছনে দৈনন্দিন অভ্যাসও ভূমিকা রাখতে পারে। অল্প সময়ে অনেক পানি পান করলে শরীর অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। আবার চা, কফি ও অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়াতে পারে।
এ ছাড়া কিছু মূত্রবর্ধক ওষুধের কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে।
পানীয় গ্রহণের সঙ্গে প্রস্রাবের ঘনত্বের সম্পর্ক থাকলে অভ্যাসে পরিবর্তন আনা উপকারী হতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু পানি বা চা-কফিকে দায়ী করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করাও ঠিক নয়।
৪. অতিসক্রিয় মূত্রথলি
অতিসক্রিয় মূত্রথলি বা ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার (Overactive Bladder) হলে মূত্রথলি পূর্ণ হওয়ার আগেই হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র বেগ অনুভূত হতে পারে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার শৌচাগারে যেতে হয়।
আরও পড়ুন:
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে? নারীদের শরীরে লুকিয়ে থাকতে পারে এই ঘাটতি
অল্প হাঁটলেই দম ফুরোচ্ছে? কোন লক্ষণে দেরি না করে যাবেন ডাক্তারের কাছে
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের বেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো শৌচাগারে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যেতে পারে। রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।
তবে একই ধরনের উপসর্গ মূত্রনালির সংক্রমণসহ অন্যান্য সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া অতিসক্রিয় মূত্রথলি বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
৫. পুরুষদের প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বেনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া (BPH) বলা হয়। প্রোস্টেট বড় হলে মূত্রনালিতে চাপ পড়ে প্রস্রাবের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাব শেষ হওয়ার পরও মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি বলে মনে হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক পুরুষদের এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
৬. গর্ভাবস্থা ও হরমোনের পরিবর্তন
গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন, শরীরে রক্ত ও তরলের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পরবর্তী সময়ে জরায়ুর চাপে প্রস্রাবের প্রয়োজন বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে অনেক গর্ভবতী নারীকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বার শৌচাগারে যেতে হয়।
তবে গর্ভাবস্থায় বারবার প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালাপোড়া, জ্বর বা ব্যথা থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এ ছাড়া মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন মূত্রনালির কিছু উপসর্গ ও সংক্রমণের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
৭. কিডনি, মূত্রথলি ও স্নায়ুর সমস্যা
কিডনি বা মূত্রনালির কিছু রোগ, মূত্রথলিতে পাথর, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুর সমস্যার কারণেও বারবার প্রস্রাব হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি না হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে আবার প্রস্রাবের প্রয়োজন দেখা দেয়। অন্যদিকে কিছু শারীরিক অবস্থায় একবারে বেশি পরিমাণ প্রস্রাব তৈরি হতে পারে। দুটি পরিস্থিতির কারণ এক নয়।
এ কারণে শুধু প্রস্রাবের সংখ্যা বিবেচনা করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। প্রতিবার প্রস্রাবের পরিমাণ, প্রস্রাবের ধারা, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য উপসর্গও গুরুত্বপূর্ণ।
রাতে বারবার প্রস্রাব হয় কেন?
রাতে ঘুমানোর পর প্রস্রাবের জন্য বারবার জেগে ওঠাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নকচুরিয়া (Nocturia) বলা হয়। ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত পানি পান, চা-কফি খাওয়া কিংবা কিছু ওষুধের প্রভাবে এমন হতে পারে।
তবে নিয়মিত রাতে একাধিকবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে হলে ডায়াবেটিস, অতিসক্রিয় মূত্রথলি, প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের তরল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো সমস্যাও বিবেচনা করতে হয়।
রাতে প্রস্রাবের কারণে ঘুম নষ্ট হলে, দিনের বেলায় ক্লান্তি দেখা দিলে কিংবা সমস্যাটি নতুন করে শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী রাতের প্রস্রাবের কারণ ভিন্ন হতে পারে।
কখন বারবার প্রস্রাব হওয়া রোগের লক্ষণ হতে পারে?
সব সময় ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কোনো রোগের লক্ষণ নয়। তবে কিছু উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অকারণে প্রস্রাব বেড়ে গেলে: পানি বা চা-কফি গ্রহণের পরিমাণ না বাড়লেও প্রস্রাবের ঘনত্ব বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা ও ওজন কমে গেলে: এসব উপসর্গের সঙ্গে বারবার প্রস্রাব হলে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হলে: মূত্রনালির সংক্রমণ থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে: অল্প পরিমাণ রক্ত হলেও দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন। রক্তপাতের কারণ নিজে থেকে নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হলে: বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বা মূত্রনালির সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
রাতে ঘন ঘন ঘুম ভাঙলে: নিয়মিত এমন হলে এবং ঘুম বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি, পিঠের পাশে ব্যথা বা বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। প্রস্রাবের তীব্র বেগ থাকা সত্ত্বেও একেবারেই প্রস্রাব করতে না পারলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।
বারবার প্রস্রাব হলে কী কী পরীক্ষা করা হয়?
বারবার প্রস্রাবের কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর উপসর্গ, সমস্যার স্থায়িত্ব, পানি ও অন্যান্য পানীয় গ্রহণের অভ্যাস এবং ব্যবহৃত ওষুধ সম্পর্কে জানতে পারেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা নির্ধারণ করা হয়।
প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের ইঙ্গিত, রক্ত বা গ্লুকোজের উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সংক্রমণের সন্দেহ থাকলে প্রস্রাবের কালচার পরীক্ষা করা হতে পারে। ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা যাচাই করতে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
উপসর্গ অনুযায়ী কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম কিংবা প্রস্রাবের পর মূত্রথলিতে কতটা প্রস্রাব অবশিষ্ট থাকছে, তা নির্ণয়ের পরীক্ষাও করা হতে পারে।
সবার জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। বয়স, লিঙ্গ, উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
বারবার প্রস্রাব কমাতে কী করবেন?
বারবার প্রস্রাবের সমস্যা কমানোর জন্য প্রথমে এর কারণ শনাক্ত করা জরুরি। কিছু অভ্যাস পরিবর্তন উপকার করতে পারে, তবে ডায়াবেটিস, সংক্রমণ বা অন্য কোনো রোগ থাকলে নির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
১. প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন: শরীরের প্রয়োজনীয় পানি পান বন্ধ করবেন না। অতিরিক্ত পানি পান করলে পরিমাণ সামঞ্জস্য করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পানির পরিমাণ অত্যধিক কমানো উচিত নয়।
২. চা-কফির পরিমাণ খেয়াল করুন: ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাওয়ার পর প্রস্রাব বেড়ে গেলে এগুলোর পরিমাণ কমিয়ে দেখুন।
৩. রাতে পানীয় গ্রহণের সময় বিবেচনা করুন: ঘুমানোর ঠিক আগে বেশি পানি পান না করলেও দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।
৪. প্রস্রাবের সময় ও পরিমাণ লিখে রাখুন: কখন প্রস্রাব হচ্ছে, প্রতিবার পরিমাণ কেমন এবং সঙ্গে কী উপসর্গ রয়েছে, তা লিখে রাখলে চিকিৎসকের জন্য কারণ নির্ণয় সহজ হতে পারে।
৫. নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না: সব ধরনের বারবার প্রস্রাব সংক্রমণের কারণে হয় না। ভুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ওষুধ প্রতিরোধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
৬. প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: মূল কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের সমস্যা অবহেলা না করে যথাসময়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
বারবার প্রস্রাব হওয়া কখনো অতিরিক্ত পানি পান বা দৈনন্দিন অভ্যাসের কারণে হতে পারে, আবার কখনো ডায়াবেটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ কিংবা মূত্রথলির সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। তাই শুধু এই উপসর্গ দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা সমস্যাকে অবহেলা করাও ঠিক নয়।
বিশেষ করে প্রস্রাবের সঙ্গে জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত বা জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক সমস্যারই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: দিনে কতবার প্রস্রাব হলে তা অস্বাভাবিক?
উত্তর: সবার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তবে দিনে আটবার বা তার বেশি প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে নতুন করে শুরু হলে বা দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটালে, চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। পানি ও ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণও বিবেচনা করতে হয়।
প্রশ্ন ২: বারবার প্রস্রাব হওয়া কি ডায়াবেটিসের লক্ষণ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি ডায়াবেটিসের একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা বা অকারণে ওজন কমার মতো উপসর্গ থাকলে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করানো উচিত। তবে শুধু এই উপসর্গ দিয়ে ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা যায় না।
প্রশ্ন ৩: রাতে দুই-তিনবার প্রস্রাব হওয়া কি স্বাভাবিক?
উত্তর: ঘুমানোর আগে বেশি পানি বা ক্যাফেইন গ্রহণ করলে এমন হতে পারে। তবে নিয়মিত রাতে ঘুম ভাঙলে, বিশেষ করে সমস্যা নতুন হলে বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালে, কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন ৪: প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া ও ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কী করবেন?
উত্তর: এগুলো মূত্রনালির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। জ্বর, কাঁপুনি, পিঠের পাশে ব্যথা বা বমি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
প্রশ্ন ৫: বারবার প্রস্রাব হলে কি পানি পান কমিয়ে দিতে হবে?
উত্তর: না। শরীরের প্রয়োজনীয় পানি পান বন্ধ বা অতিরিক্ত কমানো উচিত নয়। অতিরিক্ত পানি বা ক্যাফেইন গ্রহণের প্রভাব থাকলে তা সামঞ্জস্য করা যায়। সমস্যার কারণ জানা না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- সব ওয়ারিশের নাম খতিয়ানে নেই? জমির কী হবে জানুন
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- নতুন Pulsar N250: ৫টি রাইডিং মোড ও ৬-স্পিড গিয়ার
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- iQOO Neo 12: ৯০০০mAh ব্যাটারি ও ১৮৫Hz ডিসপ্লে
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- পুরনো জমির মালিক কে ছিলেন? জানুন তথ্য বের করার উপায়