ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

চুল পড়া বন্ধ করতে কী খাবেন? কোন পুষ্টির ঘাটতি দায়ী

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১২:০৭:০৯
চুল পড়া বন্ধ করতে কী খাবেন? কোন পুষ্টির ঘাটতি দায়ী

চুল পড়া বেড়ে গেলে অনেকেই প্রথমে শ্যাম্পু, তেল কিংবা চুলের যত্নের পদ্ধতি পরিবর্তন করেন। কিন্তু চুলের গোড়া দুর্বল হওয়া বা অতিরিক্ত চুল ঝরে পড়ার পেছনে কখনো আয়রন, প্রোটিন, জিঙ্কসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি, আবার কখনো হরমোনের পরিবর্তন, বংশগত প্রবণতা, অসুস্থতা কিংবা মানসিক চাপ কাজ করতে পারে। তাই চুল পড়া কমাতে শুধু বিশেষ কোনো খাবার খাওয়ার চেয়ে বেশি জরুরি হলো এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা।

ডিম, মাছ, ডাল, দুধ, বাদাম, শাকসবজি ও বিভিন্ন ফল নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে চুলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে সব ধরনের চুল পড়ার কারণ পুষ্টির ঘাটতি নয়। শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের অভাব না থাকলে অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেও চুল পড়া বন্ধ করা যায় না; বরং কিছু উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো চুল পড়া বাড়তে পারে।

চুল পড়া কেন বাড়ে?

প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক। সাধারণভাবে একজন মানুষের দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে যেতে পারে। পুরোনো চুল ঝরে যাওয়ার পর নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ এটি। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়তে থাকলে, মাথার ত্বক দৃশ্যমান হয়ে উঠলে কিংবা চুলের ঘনত্ব কমে গেলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও বংশগত টাক, থাইরয়েডের সমস্যা, জ্বর বা গুরুতর অসুস্থতার পর শারীরিক পরিবর্তন, দ্রুত ওজন কমানো, মানসিক চাপ এবং কিছু ওষুধের প্রভাব থাকতে পারে। চুলে অতিরিক্ত টান পড়ে এমন হেয়ারস্টাইল বা চুলে বারবার রাসায়নিক ব্যবহারও কিছু ক্ষেত্রে চুলের ক্ষতি করতে পারে।

তাই চুল পড়া কমানোর জন্য সবার ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা বা খাদ্যতালিকা কার্যকর হবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

চুল পড়া কমাতে কী কী খাবেন?

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন বজায় রাখতে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে বৈচিত্র্য রাখলে এসব পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।

১. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

চুলের প্রধান গাঠনিক উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চুল ঝরে পড়া বাড়তে পারে।

প্রোটিনের ভালো উৎস হলো মাছ, ডিম, মুরগির মাংস, দুধ, দই, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও সয়াবিন।

যাঁরা ওজন কমানোর জন্য দীর্ঘদিন খুব কম খাবার খান বা খাদ্যতালিকা থেকে অনেক ধরনের খাবার বাদ দেন, তাঁদের পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

২. আয়রনসমৃদ্ধ খাবার

চুল পড়ার সঙ্গে আয়রনের ঘাটতির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা থাকলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চুল পড়ছে মানেই শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, এমন নয়।

আয়রনের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে মাংস, মাছ, ডাল, ছোলা, শিমজাতীয় খাবার এবং কিছু গাঢ় সবুজ শাকসবজি।

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে ভিটামিন সি সহায়ক হতে পারে। তাই ডাল বা শাকসবজির সঙ্গে লেবু, পেয়ারা কিংবা ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ অন্য ফল খাওয়া উপকারী।

অতিরিক্ত চুল পড়ার সঙ্গে দুর্বলতা, ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ত্বক বা শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের হিমোগ্লোবিন ও ফেরিটিন পরীক্ষা করা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়রন ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়।

৩. জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার

জিঙ্ক শরীরের কোষের বৃদ্ধি, মেরামত এবং বিভিন্ন স্বাভাবিক জৈবিক কাজে ভূমিকা রাখে। এই খনিজের ঘাটতি হলে চুল পড়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

জিঙ্ক পাওয়া যায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ও বিভিন্ন বীজে। নিয়মিত সুষম খাবার খেলে সাধারণত খাদ্য থেকেই প্রয়োজনীয় জিঙ্ক পাওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে চুল দ্রুত গজানোর আশায় নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার জিঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত জিঙ্ক শরীরে তামার ঘাটতিসহ অন্যান্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৪. বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭

বায়োটিন শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর প্রকৃত ঘাটতি হলে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা চুল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সুস্থ মানুষের মধ্যে বায়োটিনের ঘাটতি বিরল।

ডিম, মাছ, মাংস, বাদাম, বীজ ও কিছু সবজি থেকে বায়োটিন পাওয়া যায়। তাই শুধু চুল পড়ছে বলে বেশি মাত্রায় বায়োটিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

গবেষণায় বায়োটিনের ঘাটতি নেই এমন মানুষের চুল পড়া কমাতে অতিরিক্ত বায়োটিন গ্রহণের উপকারের পক্ষে শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া উচ্চমাত্রার বায়োটিন কিছু রক্ত পরীক্ষার ফল ভুলভাবে দেখাতে পারে। ফলে পরীক্ষা করানোর আগে এটি গ্রহণের বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো জরুরি।

৫. ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি চুলের ফলিকলের কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। কিছু ধরনের চুল পড়ার সঙ্গে ভিটামিন ডির কম মাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সবার চুল পড়ার কারণ ভিটামিন ডির ঘাটতি নয়, এবং সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলেই চুল পড়া বন্ধ হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি যোগ করা কিছু খাবার থেকে এই পুষ্টি পাওয়া যায়। ঘাটতির সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো যেতে পারে।

৬. ভিটামিন বি১২ ও ফোলেটসমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি১২ ও ফোলেট রক্তকণিকা তৈরি এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি থাকলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চুল পড়ার সঙ্গে এদের সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে সমান নয়।

ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায় মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও অন্যান্য প্রাণিজ খাবারে। ফোলেট পাওয়া যায় গাঢ় সবুজ শাকসবজি, ডাল, ছোলা ও বিভিন্ন শিমজাতীয় খাবারে।

বিশেষ করে যাঁরা প্রাণিজ খাবার খান না, তাঁদের ভিটামিন বি১২ গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। ঘাটতি নির্ণীত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হতে পারে।

৭. বাদাম, বীজ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার

বাদাম ও বিভিন্ন বীজে প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। মাছ থেকে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।

কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কুমড়ার বীজ, তিল, আখরোট এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে কোনো একটি বাদাম বা বীজ খেলেই চুল পড়া বন্ধ হবে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বৈচিত্র্যময় ও পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।

কোন পুষ্টির ঘাটতিতে চুল পড়তে পারে?

চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি পুষ্টি উপাদান এবং সেগুলোর সম্ভাব্য খাদ্য উৎস নিচে তুলে ধরা হলো।

পুষ্টি উপাদানসম্ভাব্য প্রভাবখাবারের উৎস
প্রোটিন ঘাটতিতে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে ডিম, মাছ, মাংস, ডাল
আয়রন ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতার সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে মাছ, মাংস, ডাল, শাক
জিঙ্ক ঘাটতিতে চুল পড়া বাড়তে পারে মাংস, মাছ, ডিম, বাদাম
বায়োটিন প্রকৃত ঘাটতিতে চুল পাতলা হতে পারে ডিম, মাছ, বাদাম
ভিটামিন ডি কিছু ধরনের চুল পড়ার সঙ্গে কম মাত্রার সম্পর্ক পাওয়া গেছে চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, ভিটামিন ডি-যুক্ত খাবার
ভিটামিন বি১২ ও ফোলেট ঘাটতিতে রক্ত ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে প্রাণিজ খাবার, ডাল, শাকসবজি

এই তালিকার অর্থ এই নয় যে চুল পড়লেই সব পুষ্টি উপাদানের পরীক্ষা করাতে হবে। উপসর্গ, খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

চুল পড়া বন্ধ করতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন?

চুল পড়া কমানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার সবার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু অভ্যাস চুলের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দীর্ঘদিন খুব কম ক্যালরি গ্রহণ করা, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়ার কারণে চুল ঝরে পড়া বাড়তে পারে। একইভাবে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের অভাব থাকলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভিটামিন এ, ভিটামিন ই বা সেলেনিয়াম গ্রহণের সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই চুল গজানোর আশায় একসঙ্গে একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

চুল পড়া কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে?

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, শস্য, ডাল এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর চর্বির ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সকালের নাশতায় ডিম, রুটি ও ফল রাখা যেতে পারে। দুপুরে ভাতের সঙ্গে মাছ বা ডাল এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি খাওয়া যায়। বিকেলে পরিমিত বাদাম বা ফল এবং রাতে ভাত বা রুটির সঙ্গে মাছ, ডিম, ডাল কিংবা অন্য কোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে।

এটি একটি সাধারণ উদাহরণ, সবার জন্য নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা নয়। বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চুলে অতিরিক্ত টান পড়ে এমন স্টাইল এড়িয়ে চলাও উপকারী হতে পারে। তবে এসব অভ্যাস বংশগত টাক বা অন্য কোনো রোগজনিত চুল পড়ার একমাত্র চিকিৎসা নয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চুল পড়া হঠাৎ বেড়ে গেলে, মাথার নির্দিষ্ট স্থানে গোলাকার ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে, মাথার ত্বকে চুলকানি বা প্রদাহ থাকলে কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে চুলের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল পড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ফ্যাকাশে ত্বক, দ্রুত ওজন পরিবর্তন বা থাইরয়েডের সমস্যার মতো উপসর্গ থাকলেও চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের সাধারণ পরীক্ষা, ফেরিটিন, থাইরয়েডের কার্যকারিতা বা অন্য পরীক্ষা করাতে পারেন। সবার জন্য সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। পরীক্ষার ফল ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।

চুল পড়া কমাতে কোনো একটি বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর করার চেয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, মাছ, ডাল, দুধ, বাদাম, শাকসবজি ও ফল থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে বাড়তি উপকার নাও মিলতে পারে।

চুল পড়া দীর্ঘদিন চলতে থাকলে বা হঠাৎ বেড়ে গেলে নিজে থেকে ভিটামিন কিংবা ওষুধ গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিলে অনেক ধরনের চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সতর্কতা: এই প্রতিবেদন সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

প্রশ্ন ১: চুল পড়া বন্ধ করতে প্রতিদিন কী খাবেন?

উত্তর: ডিম, মাছ, ডাল, দুধ, বাদাম, শাকসবজি ও ফলসহ সুষম খাবার খেতে পারেন। কোনো একটি খাবার একাই চুল পড়া বন্ধ করতে পারে না।

প্রশ্ন ২: কোন ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ে?

উত্তর: বায়োটিনের ঘাটতিতে চুল পাতলা হতে পারে। এ ছাড়া আয়রন, জিঙ্ক বা প্রোটিনের ঘাটতিও চুল পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সব ক্ষেত্রে ভিটামিন বা পুষ্টির অভাব দায়ী নয়।

প্রশ্ন ৩: চুল পড়া কমাতে বায়োটিন ট্যাবলেট খাওয়া কি জরুরি?

উত্তর: না। বায়োটিনের প্রকৃত ঘাটতি না থাকলে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টে চুল পড়া কমার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার বায়োটিন গ্রহণ করা উচিত নয়।

প্রশ্ন ৪: আয়রনের অভাবে কি চুল পড়ে?

উত্তর: হ্যাঁ, আয়রনের ঘাটতি বা আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সঙ্গে চুল পড়ার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে প্রয়োজন নিশ্চিত না করে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।

প্রশ্ন ৫: প্রতিদিন চুল পড়া কি স্বাভাবিক?

উত্তর: সাধারণভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে পড়া স্বাভাবিক হতে পারে। তবে চুলের ঘনত্ব কমে গেলে, হঠাৎ বেশি চুল পড়লে বা মাথায় ফাঁকা জায়গা তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: