ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

দিনে কতটি কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, বেশি খেলে কী হয়

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৬:৩৭:৩২
দিনে কতটি কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, বেশি খেলে কী হয়

সহজলভ্য ও পুষ্টিকর ফল হিসেবে কলার জনপ্রিয়তা অনেক। বছরের প্রায় সব সময়ই বাজারে পাওয়া যায় এই ফল। দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি কলায় থাকে কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। তবে কলা উপকারী বলেই দিনে যত বেশি খাওয়া হবে, তত বেশি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যাবে—বিষয়টি এমন নয়।

একজন সুস্থ মানুষের খাদ্যতালিকায় পরিমাণমতো কলা রাখা যেতে পারে। তবে প্রতিদিন কতটি কলা খাওয়া উপযুক্ত, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, মোট খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর।

কলায় কী কী পুষ্টি রয়েছে?

কলা মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস। এর পাশাপাশি এতে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। কলার পুষ্টিমান এর আকার ও পরিপক্বতার ওপরও কিছুটা নির্ভর করে।

কলা সহজে খাওয়া যায় এবং রান্নার প্রয়োজন হয় না। এ কারণে ব্যস্ত সময়ে বা শারীরিক পরিশ্রমের আগে-পরে এটি সুবিধাজনক একটি খাবার হতে পারে।

দিনে কতটি কলা খাওয়া ভালো?

সবার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক কলা খাওয়ার কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি সাধারণত দৈনিক খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে ১টি কলা খেতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রম বেশি হলে বা মোট খাদ্যতালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকলে কারও ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি ফল খাওয়াও সম্ভব।

তবে দিনে কয়েকটি কলা খেতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কলা খেলে কী কী উপকার হতে পারে?

দ্রুত শক্তি দিতে পারে

কলায় কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরের শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তাই ব্যায়াম, খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের আগে কলা খাওয়া অনেকের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

পটাশিয়ামের উৎস

কলায় পটাশিয়াম রয়েছে। শরীরের স্বাভাবিক কোষীয় কার্যক্রম, পেশি ও স্নায়ুর বিভিন্ন কাজে পটাশিয়ামের ভূমিকা রয়েছে। তবে শরীরে পটাশিয়ামের প্রয়োজন পূরণে শুধু কলার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

খাদ্যআঁশ পাওয়া যায়

কলায় থাকা খাদ্যআঁশ পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশ রাখার সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পানও গুরুত্বপূর্ণ।

ভিটামিন বি৬ রয়েছে

কলায় ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়, যা শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কলা এই পুষ্টি গ্রহণে অবদান রাখতে পারে।

নাশতা হিসেবে সহজ

কলা ধুয়ে বা খোসা ছাড়িয়ে সরাসরি খাওয়া যায়। দই, ওটস বা বাদামের সঙ্গে মিলিয়েও এটি নাশতার অংশ করা যায়। এতে খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি যোগ করার সুযোগ থাকে।

বেশি কলা খেলে কী হতে পারে?

কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও অতিরিক্ত খাওয়া সবসময় উপকারী নয়। একসঙ্গে অনেক কলা খেলে মোট ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

আবার কারও খাদ্যতালিকায় হঠাৎ করে বেশি কলা যুক্ত হলে পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তি হতে পারে। ব্যক্তিভেদে এসব প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে।

অতিরিক্ত কলা খাওয়ার আরেকটি বিষয় হলো পটাশিয়াম। সুস্থ কিডনি সাধারণত শরীরের অতিরিক্ত পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যাদের জন্য কলা উপকারী হতে পারে

সুস্থ শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে কলা খাওয়া যেতে পারে। যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য কলা দ্রুত কার্বোহাইড্রেটের একটি সহজ উৎস হতে পারে।

যাদের খাবারের তালিকায় ফলের পরিমাণ কম, তারাও পরিমাণমতো কলা খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। তবে শুধু কলা নয়, বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

কারা কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন?

কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

কিডনির সমস্যা থাকলে শরীর থেকে পটাশিয়াম বের করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কলায় পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা উচিত।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি

কলা খাওয়া মানেই ডায়াবেটিসে ক্ষতিকর—এমন নয়। তবে কলায় কার্বোহাইড্রেট থাকে এবং পাকা কলার মিষ্টতা তুলনামূলক বেশি। তাই ডায়াবেটিস থাকলে কলার পরিমাণ, আকার এবং দিনের অন্যান্য কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন

ওজন কমানোর সময় কলা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে একসঙ্গে একাধিক কলা খেলে দৈনিক মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

যাদের পেটে অস্বস্তি হয়

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কলা খেলে পেট ফাঁপা বা অন্য ধরনের হজমের অস্বস্তি হতে পারে। এমন সমস্যা বারবার হলে খাবারের পরিমাণ ও ব্যক্তিগত সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

কলা খাওয়ার সঠিক সময় কি নির্দিষ্ট?

কলা খাওয়ার জন্য সবার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট “সেরা সময়” নেই। সকালে নাশতার অংশ হিসেবে, খাবারের মাঝখানে কিংবা ব্যায়ামের আগে-পরে কলা খাওয়া যেতে পারে।

তবে যাদের ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত খাদ্যপরিকল্পনা অনুযায়ী সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

কলা উপকারী ফল হলেও কোনো একটি খাবার বেশি খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, শস্য, ডাল, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সমন্বয় দরকার।

তাই একজন সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন পরিমাণমতো কলা খাওয়া খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত কলা খাওয়ার মধ্যে বিশেষ কোনো বাড়তি স্বাস্থ্য সুবিধা নেই। আর কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে নিজের মতো করে বেশি কলা খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ