ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

এবার রোহিঙ্গাদের প্রতি কঠোর হবে সরকার

২০১৯ আগস্ট ২২ ২০:৪৪:২৬
এবার রোহিঙ্গাদের প্রতি কঠোর হবে সরকার

গত ডিসেম্বরে ব্যর্থ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দ্বিতীয়বারের মতো কক্সবাজারের একাধিক শিবিরে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজের দেশে ফিরে যেতে রাজি হননি। মূলত মিয়ানমার রাখাইনে

আস্থার এবং নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি বলেই রোহিঙ্গারা আবার মৃত্যুর মুখে ফিরে যেতে রাজি হচ্ছে না। রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে না চাইলে তাদেরকে নোয়াখালীর ভাসানচরে রাখা হবে হবে সরকারি সূত্রগুলো আভাস দিচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সারাবাংলা’কে বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে সারাবাংলা’কে বলেন, ‘‘না গেলে তারা ভুল করবে। যারা যাবে না, উই সুড টেক দেম, ফোর্স দেম টু ভাষানচর, তাদেরকে ভাষানচরে পাঠিয়ে দিতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দি্‌তীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের কাছে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চান যে রোহিঙ্গারা ভাসানচরেও যেতে চায় না, বিষয়টি কী। জবাবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভাসানচরের বিষয়ে এবার আমরা কঠোর (স্ট্রং) হবো।’

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারের শিবির থেকে ২৩ হাজার পরিবারের মোট ১ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানাস্তর করতে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচরের উন্নয়ন করেছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যাগকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রথমে সাধুবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অদৃশ্য কারণে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতেও অসম্মতি জানায়।

এ বিষয়ে চলতি বছরের ২৯ জুলাই (সোমবার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘কক্সবাজারের একাধিক শিবিরের মাত্র ৬ হাজার ৮০০ একর জমিতে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল। ভয় ছিল যে, অতিবৃষ্টিতে পাহাড়ধসে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ভাসানচরের জমি উন্নয়ন করেন। ভাসানচরে ২৩ হাজার পরিবারের মোট ১ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানাস্তর করার পরিকল্পনা ছিল।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘ভাসানচরে বসবাসের জন্য সুন্দর বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়। যেমন: মাছ ধরা, কৃষি কাজ করা, গরু-ছাগল পালন ইত্যাদি। ভাসানচরের জমি উন্নয়ন করে অনেক উঁচুও করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেকগুলো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রও নির্মাণ করা হয়েছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা খরচ করে এতো সুন্দর করে ভাসানচরের উন্নয়ন করলাম অথচ রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে চায় না। আমরাও জোর করে পাঠাতে চাই না। তাদেরকে এনজিও বা কেউ বুদ্ধি দিয়েছে ওখানে না যাওয়ার জন্য।’

আব্দুল মোমেন আরও বলেন, ‘ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে বিশ্ব খাদ্য সংস্থাসহ অনেকেই প্রথমে সম্মতি দেয়। কিন্তু পরে দেখা গেল যে, ভাসানচরে রোহিঙ্গারা গেলে তো এনজিও কর্মকর্তারা সেখানে পাঁচ তারকা বা চার তারকা হোটেলে আরামে থাকতে পারবেন না, কক্সবাজারে যেটা সম্ভব।’

এদিকে, রোহিঙ্গা সংক্রান্ত একাধিক ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান এতদিন নমনীয় থাকলেও সামনে এ অবস্থান অনেক কঠোর হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন সারাবাংলা’কে বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে সারাবাংলাকে বলেন, ‘যেসব বিদেশি সংস্থা ফিরে না যাওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে, আমরা মনে হয় ওইসব সংস্থার দেশে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া ঠিক হবে। আমি শুনেছি যে হংকং ভিত্তিক একটি গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, এদের (রোহিঙ্গা) পাঠানো উচিত না। আমরা এখন ওই সংস্থাকে বলব যে তবে তোমরা রোহিঙ্গাদের হংকং নিয়ে যাও। যেসব সংস্থা কক্সবাজারের শিবিরগুলো কাজ করছে এবং ফিরে না যাওয়ার জন্য প্ররোচণা দিচ্ছে, আমার মনে হয়, দেয় সুড বি ইউড্রো ফরম দিস প্লেস।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার জন্য শিবিরগুলোতে যেসকল সংস্থা প্রচারণা চালাচ্ছে তাদের আমরা চিহ্নিত করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ঢাকার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন চিন্তা করেছি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য একটি কমিশন গঠন করব, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।’

পাঠকের মতামত:

সারাদেশ এর সর্বশেষ খবর

সারাদেশ - এর সব খবর



রে