ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯

গোপন তথ্য ফাঁস: বীরেন্দ্র সেহবাগ, হরভজন সিং, গৌতম গম্ভীরের অবসরের জন্য দায়ী ধোনি

২০২২ জুলাই ০৩ ১২:২২:৩৯
গোপন তথ্য ফাঁস: বীরেন্দ্র সেহবাগ, হরভজন সিং, গৌতম গম্ভীরের অবসরের জন্য দায়ী ধোনি

ভারতীয় দলে বহু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত গড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্যাপ্টেন কুল বেশকিছু খেলোয়াড়দের কেরিয়ার গড়ার পাশাপাশি বেশকিছু খেলোয়াড়দের ভবিষ্যত নষ্ট করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ধোনির নেতৃত্বেই বহু ভারতীয় তারকারা মাটি থেকে সাফল্যের আকাশে উঠেছেন, আবার পাশাপাশি যখন ভারতীয় দলের বেশকিছু তারকা অবসর নেন, সেই সময় তারা এমএস ধোনির সমালোচনাও করেছেন। তাদের অবসর নেওয়ার পর আকারে ইঙ্গিতে তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাদের এই অবসর নেওয়ার জন্য একমাত্র ক্যাপ্টেন কুলই দায়ী।

এই সমস্ত ক্রিকেটারদের বিশ্বাস ছিল যে তাদের মধ্যে তখনও অনেক ক্রিকেট বেচে ছিল। কিন্তু ধোনির কারণেই তাদের বাধ্য হয়ে সময়ের আগে অবসর নিতে হল। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তিন ক্রিকেটারের কথাই রয়েছে যারা অবসর নেওয়ার পর তাদের এই সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করেছিলেন এমএস ধোনিকেই।

বীরেন্দ্র সেহবাগ (Virendra Sehwag)

ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক আলাদাই পরিচিতি তৈরি করেছিলেন নজফগড়ের নবাব বীরেন্দ্র সেহবাগ। ওপেনারের সংজ্ঞাই বদলে দেওয়া সেহবাগের নামে প্রবাদ অতীতে ওপেনাররা বল ছেড়ে ছেড়ে পুরনো করতেন, আর সেহবাগ বল পুরনো করতেন প্রহার করে। মিডল অর্ডার থেকে সৌরভের হাত ধরে ওপেনিংয়ে আসা বীরেন্দ্র সেহবাগের নামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রয়েছে অগুনতি রেকর্ড। কিন্তু ধোনি অধিনায়ক হওয়ার পর কিছুটা খারাপ ফর্মের জন্য দীর্ঘদিন তাকে দলের বাইরে থাকতে হয়। এক সময় ধোনি-সেহবাগের ঝগড়া শিরোনামে উঠে এসেছিল সংবাদপত্রের পাতাতেও। দলে সুযোগ না পাওয়ায় এক সময় বীরেন্দ্র সেহবাগ বাধ্য হন অবসর নিতে।

অবসর নেওয়ার পর এক সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন নজফগড়ের নবাব বীরু। বেশ কয়েকবার মিডিয়ার সামনেও সেই ক্ষোভের প্রকাশ করেছিলেন শচীন তেন্ডুলকরের প্রিয় সঙ্গী। সেহবাগের অবসর নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া ধোনি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সেহবাগ, গৌতম গম্ভীর আর শচীন তেন্ডুলকরকে দলে না রাখার কারণ হিসেবে তাদের শ্লথ গতির ফিল্ডার বলে দাবি করেছিলেন। আগুনে ঘি পড়েছিল তারপর। ধোনির এই বয়ানের পর প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেছিলেন বীরেন্দ্র সেহবাগ। একটি সাক্ষাৎকারে সেহবাগ সেই সময় নিজের অবসরের জন্য দায়ী করে বলেছিলেন, ‘ও সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছে কিন্তু টিম মিটিংয়ে কখনও বলেনি যে আমরা ধীর গতির ফিল্ডার”।

গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)

ধোনির কারণে অবসর নেওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার তথা বর্তমানে বিজেপির সাংসদ গৌতম গম্ভীরেরও। ২০০৭ এর বিশ্বকাপে ভারতীয় দলকে নিজের প্রদর্শনে খেতাব জিতিয়েছিলেন গম্ভীর। আর তারপর ইতিহাস গড়া ২০১১ আইসিসি একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে গম্ভীরের সেই অবিস্মরণীয় ৯৭ রানের ইনিংস। কে ভুলতে পারে গম্ভীরের সেই ইনিংসকে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই ইনিংস ২৮ বছর পর ঘরের মাটিতে ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। এহেন গম্ভীরকেও ধোনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে রেখেছিলেন। ফলশ্রুতিতে গম্ভীর অভিমানে অবসর ঘোষণা করেন। অবসর নেওয়ার পরই বারবার গম্ভীর নিজের সাক্ষাৎকারে আকারে ইঙ্গিত দল থেকে তার বাদ পড়া এবং অবসর নেওয়ার জন্য এমএস ধোনিকেই দায়ী করেছেন।

নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ গৌতম গম্ভীর খেলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তারিখ ছিল ৯ নভেম্বর ২০১৬। তারপর আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি গম্ভীর। বাধ্য হয়েই অবসর নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। যদিও অবসর নেওয়ার পর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলা বজায় রাখেন ভারতীয় দলে গোতি নামে পরিচিত এই তারকা। নিজের নেতৃত্বে দুবার কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল খেতাবও এনে দেন তিনি, বুঝিয়ে দেন অবসর নিলেও তার মধ্যে যথেষ্ট ক্রিকেট বাকি ছিল। গৌতম গম্ভীর ভারতীয় দল থেকে ২৩ এপ্রিল ২০১৮ সালে অবসর ঘোষণা করেছিলেন।

হরভজন সিং (Harbhajan Singh)

এক সময় নিজের অনুশাসনহীন জীবনযাপনের কারণে ভারতীয় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন কিশোর হরভজন সিং। এমনকী জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে আবারও কিশোর হরভজনকে দলে ফিরিয়ে আনেন তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী। সেই সময় রীতিমতো নির্বাচকদের সঙ্গে লড়াই করে ভাজ্জিকে দলে আনেন সৌরভ। আর অধিনায়কের সেই ভরসাকে বজায় রাখেন ভাজ্জিও। কলকাতা টেস্টে ভারতীয় দলকে হ্যাটট্রিক করে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছিলেন তরুণ তারকা হরভজন। আর ওই পুরো সিরিজে ৩টি টেস্টে নিয়েছিলেন রেকর্ড ৫৩টি উইকেট। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভারতীয় দলের এই অফস্পিনারকে।

২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০১১ সালের একদিনের বিশ্বকাপ জেতানোর পাশপাশি ভারতীয় দলকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতিয়েছেন হরভজন। অনিল কুম্বলের অবসরের পর ভারতীয় স্পিন বিভাগের তিনিই ছিলেন নেতা। ভারতীয় দলের এই বহু যুদ্ধের সৈনিককে এক সময় ব্যাড প্যাচের কারণে দল থেকে বাদ পড়তে হয়। এমনকী ২০১১ সালে একদিনের বিশ্বকাপ জেতানোর পর পরের বিশ্বকাপেও দলে জায়গা দেওয়া হয়নি তাকে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন এই অফ স্পিনার। বাধ্য হয়েই অবসর নেন হরভজন। এরপরই ভাজ্জি জানান তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কোনো কারণ দেখানো হয়নি। অধিনায়ক ধোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হরভজন বলেছলেন, “আমি অধিনায়ককে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করার চেষ্টা করেছিলাম যে আমাকে কেন দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ও কখনও আমাকে এর কারণ জানায়নি”।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে